চোখ জুড়ানো টাঙ্গাইলের মহেরা জমিদার বাড়ি

1 Shares

চোখ জুড়ানো মহেরা জমিদার বাড়ি…
রাজা নেই কিন্তু রাজকীয় জৌলুসটা এখনও রয়ে গেছে। বিন্দু মাত্র কমেনি রাজ প্রাসাদের রূপের জৌলুস। এর চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্য্য মোহিত করবে আপনাকে। ইতিহাসের বারান্দায় দাড়িয়ে মনের অজান্তেই বলে ফেলবেন ওয়াও, অনেক আগেই আসা উচিত ছিল এখানে! বলছি টাঙ্গাইলের মহেরা জমিদার বাড়ির কথা। শুধু রাজবাড়ী নয়, আছে ঘোরার পর্যাপ্ত জায়গা। খুব সাজানো গুছানো পরিবেশ। ঢাকার আশেপাশে একদিনে ঘোরার জন্য নিঃসন্দেহে এটি চমৎকার জায়গা।

বর্তমানে রাজার পরিবারের কেউ থাকেনা। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী হানাদার বাহীনি এখানেও হত্যাযজ্ঞ চালায়। এ ঘটনার পর সেখানকার শোকাগ্রস্থ শাসকরা জমিদার বাড়িটি ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সরকার বিভিন্ন সময়ে ব্যাপক সংস্কার কাজ পরিচালনা করে রাজ বাড়িটিকে বর্তমান রূপ দিয়েছে।
১৯৭২ সালে এটাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার। এটি পুলিশের তত্বাবধানে রয়েছে এবং তাদের ম্যানেজমেন্ট খুব চমৎকার। কেউ চাইলে রাজ প্রাসাদ ভাড়া নিয়েও থাকতে পারবেন। শান বাঁধানো পুকুর পাড়ে বসে চাদ দেখতে পারবেন 😉 ।
মজার বিষয় হলো, এাখানে খাবারে জন্য চেয়ার টেবিলের ও সুব্যবস্থা আছে এবং এর জন্য কোন টাকা লাগেনা। যেটা এর আগে কোন টুরিস্ট স্পটে চোখে পড়েনি। ভেতরে ছোট্ট শিশুপার্ক আছে। ছোটদের সাথে বড়রাও দোল খেতে পারবে। এটাও কিন্তু একদম ফ্রি।

রান্না করে নিয়ে গেলে মনোরম পবিরেশে খানাপিনাটা সেরে ফেলতে পারবেন। টয়লেটে হ্যান্ড ওয়াস ও পাবেন। পুলিশের ট্রনিংটাও এক পলক দেখতে পারবেন।
তবে একটা বিষয় খারাপ লেগেছে। প্রবেশ ফিটা অনেক বেশি মনে হয়েছে, জন প্রতি ৮০ টাকা!
আপনারা চাইলে করটিয়া জমিদার বাড়িও দেখে আসতে পারেন। মহেরা জমিদার বাড়ি থেকে কাছেই। সেখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশও ভাল লাগারর মত।
শুধু এটুকু বলব, মহেরা জমিদার বাড়ি দেখে আপনি মুগ্ধ হবেন এটা গ্যারান্টি দিতে পারি। ঘোরাঘুরির ফাকে ফাকে হালকা ভিডিও করেছিলাম। ভিডিও লিংকটি শেষে দিয়ে দিলাম।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: ভিডিওটিতে কয়েকটি ড্রোন ক্যামেরার শট রয়েছে। যেটা নেট থেকে সংগ্রহ করেছিলাম। পরে জানতে পারি ওটা মহেরা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার কতৃপক্ষের। পোস্টে প্রদত্ত ছবিগুলোও সেই ভিডিও থেকে স্ক্রীন শট দেয়া। মহেরা পুলিশ ট্রেনিং কতৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল-পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি মাথায় রাখবেন। ময়লা ডাস্টবিনে ফেলবেন।

কিভাবে যাবেন:

টাঙ্গাইল প্রসাশনের ওয়েবসাইটে প্রদত্ত ঠিকানা-যেভাবে যেতে হবে- ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলগামী বাসে নাটিয়াপাড়া বাসষ্ট্যান্ডে নেমে অপেক্ষ্যমান সিএনজি বেবীটেক্সীযোগে (ভাড়া ৭৫ টাকা, শেয়ারে জন প্রতি ১৫ টাকা) ০৩ কিঃমিঃ পূর্ব দিকে মহেড়া জমিদার বাড়ি । মহাসড়কে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, মহেড়া, টাঙ্গাইল নামে দিক নির্দেশনা ফলক (বিশাল সাইনবোর্ড) আছে। আর যারা উত্তরবঙ্গ থেকে আসবেন তারা যে কোন ঢাকাগামী বাসে টাঙ্গাইল পার হয়ে ১৭ কিঃমিঃ পর নাটিয়াপাড়া বাসষ্ট্যান্ডে নেমে একইভাবে যেতে পারেন

ভিডিও লিংক:

আপনারা ভিডিওটি ১ মিনিট পর থেকে দেখা শুরু করবেন। চাইলে প্রথম থেকেও দেখতে পারেন…

Facebook Comments
1 Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *